ধানের শীষ বনাম রিকশা: দলবদলের রাজনীতিতে প্রশ্নের মুখে সাবেক এমপি
হৃদয় আহমেদ—কলমাকান্দা (নেত্রকোনা)
সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-১ আসনকে ঘিরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। তবে মাঠপর্যায়ে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে দুটি প্রতীকে— বিএনপির ধানের শীষ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে।
মাঠপর্যায়ের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন ভোটারদের বড় একটি অংশ। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে দশ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ একাধিক দল ঘুরে এবার খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে ঘিরে এলাকায় দলবদলের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোলাম রব্বানী সাধারণত যে দলে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন— এমন ধারণা অনেকের। এ কারণেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি প্রচারণা জোরদার করেছেন।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মাঠে সক্রিয় সময় পার করছেন। তিনি নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। এসব সভায় তিনি শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দেন।
একাধিক সভায় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতা নয়, রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। আমি আইনের মানুষ, আইন দিয়েই অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। নির্বাচিত হলে নেত্রকোনা-১ আসনকে দালালমুক্ত, মাদকমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি মানবিক আসনে রূপ দিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “এই সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ বহু বছর ধরে অবহেলিত। এখানে উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা নয়— শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।” এছাড়াও মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকেই এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় কাঠের সেতু নির্মাণ অসামাজিক উন্নয়ন করেছেন বলেও জানান।
এদিকে প্রচারণার সময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রকাশ্যে প্রশংসা করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বেলাল হোসেনকে বলতে শোনা যায়, “ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই আমি মুগ্ধ হই। তিনি দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, এজন্য আমি তাঁকে সম্মান করি।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশকে ভালোবেসে রাজনীতি করেছে। আসুন দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে একটি দালালমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করি।”
অন্যদিকে গোলাম রব্বানী তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“আমি আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছি। আবার নির্বাচিত হলে আরও কাজ করব। আগে বিভিন্ন দলে ছিলাম, এবার ইসলামের পক্ষে থাকতে চাই।”
উল্লেখ্য, নেত্রকোনা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ছয়জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন— বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মো. আলকাছ উদ্দিন মীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আ. মান্নান (সোহাগ) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের তারা প্রতীকের প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন।
Facebook Comments Box
















