জমজমাট ঈদের গরুর বাজার, নাজিরপুরে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর গরুর হাটে জমে উঠেছে পশুর বেচাকেনা। প্রতি বৃহস্পতিবার বসা এই ঐতিহ্যবাহী হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে পরিণত হয়েছে এক প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ বাজারে। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ১০ পর্যন্ত হাটজুড়ে হবে দফায় দফায় দরদাম ও লেনদেন।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু নিয়ে আসছেন। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরুর পাশাপাশি উন্নত জাতের গরুও হাটে উঠেছে। ক্রেতারা গরুর স্বাস্থ্য, ওজন, বয়স ও আকার যাচাই করে দরদাম করছেন। কেউ পছন্দের গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে হাট ঘুরে দেখছেন এবং তুলনামূলক ভালো গরুর খোঁজ করছেন।
এবারের হাটে ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় আকারের গরু তুলনামূলক উচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে স্বাস্থ্যবান ও বড় গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন দামের গরু থাকায় ক্রেতারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু বেছে নিচ্ছেন।
খামারিরা জানান, পশুখাদ্য, ভুসি, খড় ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গরু পালনে এবার খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। সেই প্রভাব বাজারদরেও পড়েছে। তবে কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বেচাকেনা সন্তোষজনক হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এবারের হাটে স্থানীয় খামারি পারভেজ ভূঁইয়ার গরু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তিনি জানান, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি তার খামারে ৩০টি গরু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬টি গরু বিক্রি হয়েছে। তার খামারের একটি বড় গরু ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।
পারভেজ ভূঁইয়া বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরুগুলো লালন-পালন করেছি। খাবারের দামসহ অন্যান্য খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও বাজারে ভালো সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি বাকি গরুগুলোও ভালো দামে বিক্রি হবে।”
হাটের ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইজারাদার পক্ষের প্রতিনিধিরা। তারা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বজায় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নাজিরপুর গরুর হাট দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার। কুরবানির মৌসুমে এখানে বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। এবারও হাটে ভালো মানের গরু পাওয়া যাচ্ছে এবং বেচাকেনা সন্তোষজনক হচ্ছে। এতে স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয়দের মতে, নাজিরপুর গরুর হাট শুধু পশুর বাজারই নয়, বরং এটি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রতি বৃহস্পতিবার বসা এই হাট কোরবানির মৌসুমে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যেখানে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ গরু কিনতে আসেন।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমজমাট হয়ে উঠছে কলমাকান্দার বিভিন্ন গরুর হাট। ব্যবসায়ী ও খামারিরা আশা করছেন, শেষ দিকের হাটগুলোতে বেচাকেনা আরও বাড়বে এবং বাজার আরও প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ হবে।












