সরকারি খাস জমি দখল করে নালা নির্মাণে বাধা যুবলীগ নেতার
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি গ্রামে সরকারি খাস জমি দখল করে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালা মিয়া পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। এ ঘটনায় এলাকার দুই শতাধিক কৃষকের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার হোসেন সরকারি খাস জমি দখল করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে রেখেছেন। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাওরের পানি ঠিকমতো নামতে না পেরে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিবছর শতাধিক কৃষক ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন।
কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ে গুতুরা-আমবাড়ী সড়কের পলাশহাটি গ্রামের শামছুর পুকুরপাড় সংলগ্ন ব্রিজ থেকে রোজ আলীর বাড়ি পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নালা নির্মাণে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে সরকারি খাস জমি দখল করে রাখা আনোয়ার হোসেন জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং নালা নির্মাণকাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন বলেন, “প্রশাসন সরকারি জমি দখলমুক্ত করেছে। তারপরও আনোয়ার হোসেন নানা উপায়ে নালা নির্মাণের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত নালা নির্মাণ শেষ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেও কৃষকদের দুর্ভোগ ও ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।”
এবিষয়ে জানতে কথা হয় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘর তোলার পর প্রশাসন এসে ভেঙে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি বসবাস করছি এখানে। তবে সরকারি জমি রয়েছে এ বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে পোগলা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “দখলে থাকা জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি। সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় ভোগদখল করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














