1. hridoynews3355@gmail.com : Hridoypress : Hridoy Ahmed
  2. mahabubalama1993@gmail.com : Mahabub Alam : Mahabub Alam
  3. netrakonalive@gmail.com : NETRAKONA LIVE : NETRAKONA LIVE
  4. mdkayeasahmed@gmail.com : MD KAYEAS AHMED : MD KAYEAS AHMED
ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাগজে ১২৭ শ্রমিক, মাঠে পঞ্চাশের নিচে

নেত্রকোণা লাইভ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলমাকান্দা, নেত্রকোনা 

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের “দমদমা” খাল পুনঃখনন প্রকল্পে শ্রমিকের উপস্থিতি, হাজিরা ব্যবস্থাপনা এবং কাজের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে কাগজে-কলমে ১২৭ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে ৫০ জনেরও কম শ্রমিক। একই সঙ্গে প্রকল্পের মূল খননকাজে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে খারনৈ ইউনিয়নের “দমদমা” খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫১ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৪ টাকা। প্রায় ১ হাজার ৫২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ খালে ১২৭ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকার কথা রয়েছে। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা এবং কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ৪০ কর্মদিবস। এছাড়া সর্দার ভাতা ৪ হাজার টাকা।

প্রকল্পের তথ্যফলক অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ হয়নি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত শ্রমিকরা খাল খননের পরিবর্তে খালের পাড়ে মেহগনি গাছের চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত। অথচ প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিদিন ১২৭ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ জন।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ২৪ দিনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের মূল খনন কাজ শ্রমিক দিয়ে না করিয়ে ভেকু ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের খালের পাড় সংস্কার ও গাছের চারা রোপণের কাজে নিয়োজিত করা হয়।

প্রকল্প পরিচালনায়ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিধি অনুযায়ী শ্রমিকদের সর্দারের কাছে হাজিরা খাতা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা রয়েছে খারনৈ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আসাদ মিয়ার কাছে। শ্রমিকদের দাবি, তিনিই পুরো প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। শুধু তাই নয়, খাল খননের পরিবর্তে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও একটি বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা সংস্কারের কাজেও শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রকল্পের আওতাভুক্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের তালিকাভুক্ত অনেক শ্রমিককে কখনোই মাঠে দেখা যায়নি। আবার কয়েকজন শ্রমিককে প্রকল্প এলাকার বাইরে অন্য কাজেও নিয়োজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাজে নিয়োজিত কয়েকজন আদিবাসী শ্রমিকের সঙ্গে কথা বললে তারা প্রকল্পের সর্দার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম বলতে পারেননি। হাজিরা খাতা কোথায় রাখা হয় কিংবা কার তত্ত্বাবধানে উপস্থিতি যাচাই করা হয়, সে বিষয়েও তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে প্রকল্পের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন দমদমা গ্রামের কৃষক মার্কণ্ড দয়াল হাজং। তিনি দাবি করেন, সরকারি খালের নির্ধারিত ম্যাপ অনুসরণ না করে তার ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমির ওপর দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে।

মার্কণ্ড দয়াল হাজং বলেন, “আমার প্রায় ৫ থেকে ৬ কাঠা জমি খালের মধ্যে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আমার ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে এবং সেচের মোটর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরকারি খালের মূল হালট বাদ দিয়ে অন্যায়ভাবে আমার জমির ওপর দিয়ে খাল নেওয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশাদ মিয়া বলেন, “দমদমা খালের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে গাছের চারা রোপণের কাজ চলছে। ছোট গাছের চারা পাওয়া গেছে, এখন বড় গাছের চারা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।”

প্রতিদিন ১২৭ জন শ্রমিক কাজ করার কথা স্বীকার করলেও মাঠে শ্রমিকের উপস্থিতি কম থাকার কারণ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির দায়িত্ব তার ওপর রয়েছে। তবে হাজিরা খাতা কার কাছে রয়েছে, কীভাবে উপস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সংখ্যক শ্রমিক কেন মাঠে নেই—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, “৪০ দিনের কর্মসূচির নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। এখন যারা কাজ করছে, তারা অতিরিক্ত কাজে নিয়োজিত রয়েছে।”

অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলাম বলেন, “খনন ও সংস্কার কাজে শ্রমিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এক প্রকল্পের শ্রমিককে অন্যত্র কাজে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

তবে ইউপি চেয়ারম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য এবং মাঠে কর্মরত শ্রমিকদের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শ্রমিক সংখ্যা, কাজের ধরন, হাজিরা ব্যবস্থাপনা, খননকাজে ভেকুর ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে মিল না থাকায় প্রকল্পটিতে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

  • প্রকাশের সময় : ০৩:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
    • আপনি কি নেত্রকোণা লাইভ এর নিয়মিত দর্শক..?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
    ফজর3:40 am
    জোহর11:58 am
    আসর4:38 pm
    মাগরিব6:44 pm
    ইশা8:12 pm
    সূর্যোদয় - 5:07 amসূর্যাস্ত - 6:44 pm

    কাগজে ১২৭ শ্রমিক, মাঠে পঞ্চাশের নিচে

    প্রকাশের সময় : ০৩:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

    কলমাকান্দা, নেত্রকোনা 

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের “দমদমা” খাল পুনঃখনন প্রকল্পে শ্রমিকের উপস্থিতি, হাজিরা ব্যবস্থাপনা এবং কাজের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে কাগজে-কলমে ১২৭ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে ৫০ জনেরও কম শ্রমিক। একই সঙ্গে প্রকল্পের মূল খননকাজে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে খারনৈ ইউনিয়নের “দমদমা” খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫১ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৪ টাকা। প্রায় ১ হাজার ৫২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ খালে ১২৭ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকার কথা রয়েছে। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা এবং কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ৪০ কর্মদিবস। এছাড়া সর্দার ভাতা ৪ হাজার টাকা।

    প্রকল্পের তথ্যফলক অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ হয়নি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    সম্প্রতি সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত শ্রমিকরা খাল খননের পরিবর্তে খালের পাড়ে মেহগনি গাছের চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত। অথচ প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিদিন ১২৭ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ জন।

    শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ২৪ দিনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের মূল খনন কাজ শ্রমিক দিয়ে না করিয়ে ভেকু ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের খালের পাড় সংস্কার ও গাছের চারা রোপণের কাজে নিয়োজিত করা হয়।

    প্রকল্প পরিচালনায়ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিধি অনুযায়ী শ্রমিকদের সর্দারের কাছে হাজিরা খাতা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা রয়েছে খারনৈ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আসাদ মিয়ার কাছে। শ্রমিকদের দাবি, তিনিই পুরো প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। শুধু তাই নয়, খাল খননের পরিবর্তে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও একটি বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা সংস্কারের কাজেও শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রকল্পের আওতাভুক্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের তালিকাভুক্ত অনেক শ্রমিককে কখনোই মাঠে দেখা যায়নি। আবার কয়েকজন শ্রমিককে প্রকল্প এলাকার বাইরে অন্য কাজেও নিয়োজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    কাজে নিয়োজিত কয়েকজন আদিবাসী শ্রমিকের সঙ্গে কথা বললে তারা প্রকল্পের সর্দার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম বলতে পারেননি। হাজিরা খাতা কোথায় রাখা হয় কিংবা কার তত্ত্বাবধানে উপস্থিতি যাচাই করা হয়, সে বিষয়েও তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

    এদিকে প্রকল্পের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন দমদমা গ্রামের কৃষক মার্কণ্ড দয়াল হাজং। তিনি দাবি করেন, সরকারি খালের নির্ধারিত ম্যাপ অনুসরণ না করে তার ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমির ওপর দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে।

    মার্কণ্ড দয়াল হাজং বলেন, “আমার প্রায় ৫ থেকে ৬ কাঠা জমি খালের মধ্যে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আমার ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে এবং সেচের মোটর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরকারি খালের মূল হালট বাদ দিয়ে অন্যায়ভাবে আমার জমির ওপর দিয়ে খাল নেওয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

    এ বিষয়ে খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশাদ মিয়া বলেন, “দমদমা খালের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে গাছের চারা রোপণের কাজ চলছে। ছোট গাছের চারা পাওয়া গেছে, এখন বড় গাছের চারা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।”

    প্রতিদিন ১২৭ জন শ্রমিক কাজ করার কথা স্বীকার করলেও মাঠে শ্রমিকের উপস্থিতি কম থাকার কারণ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির দায়িত্ব তার ওপর রয়েছে। তবে হাজিরা খাতা কার কাছে রয়েছে, কীভাবে উপস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সংখ্যক শ্রমিক কেন মাঠে নেই—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

    খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, “৪০ দিনের কর্মসূচির নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। এখন যারা কাজ করছে, তারা অতিরিক্ত কাজে নিয়োজিত রয়েছে।”

    অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলাম বলেন, “খনন ও সংস্কার কাজে শ্রমিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এক প্রকল্পের শ্রমিককে অন্যত্র কাজে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

    তবে ইউপি চেয়ারম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য এবং মাঠে কর্মরত শ্রমিকদের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শ্রমিক সংখ্যা, কাজের ধরন, হাজিরা ব্যবস্থাপনা, খননকাজে ভেকুর ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে মিল না থাকায় প্রকল্পটিতে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

    Facebook Comments Box