ধ্বংসস্তূপে পরিণত নাজিরপুর পোস্ট অফিস
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা)
একসময় দূর-দূরান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল পোস্ট অফিস। প্রিয়জনের খোঁজখবর, চাকরি, পরীক্ষার ফলাফল, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কিংবা প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো মানি অর্ডার—সবকিছুর নির্ভরযোগ্য ঠিকানা ছিল এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন মানুষের পদচারণায় মুখর থাকত পোস্ট অফিস চত্বর। অথচ সময়ের পালাবদলে সেই ব্যস্ততা আজ হারিয়ে গেছে। অযত্ন, অবহেলা ও তদারকির অভাবে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর পোস্ট অফিস এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পথে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবহৃত নাজিরপুর পোস্ট অফিসের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে পলেস্তার। ছাদজুড়ে জন্মেছে শ্যাওলা ও আগাছা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের ভেতরেও জমেছে নোংরা পরিবেশ। একসময় যে ভবনে মানুষের আনাগোনা ছিল, আজ সেখানে নীরবতা আর অবহেলার ছাপ স্পষ্ট।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আব্দুল সামাদ সহ কথা হয় কয়েক জনের সঙ্গে। তাদের ভাষ্য—দুই দশক আগেও নাজিরপুর পোস্ট অফিস ছিল এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন শত শত চিঠি আসত এখানে। প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো মানি অর্ডারের অপেক্ষায় থাকতেন অনেক পরিবার। চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনপত্র, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল এবং বিভিন্ন সরকারি নোটিশ পৌঁছে যেত এই পোস্ট অফিসের মাধ্যমেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে এখানে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে। বর্তমানে নাজিরপুর বাজারের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে নিয়মিতভাবে পোস্ট অফিস ভবনের আশপাশে ফেলা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভবনের চারপাশ ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পোস্ট অফিসের বারান্দা, দরজার সামনে ও আশপাশের খোলা জায়গা অনেকেই উন্মুক্ত শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে পরিবেশ যেমন নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে সরকারি এই স্থাপনার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য। স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার এবং মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে পোস্ট অফিসের প্রচলিত সেবার ব্যবহার কমে গেছে। তবে ব্যবহার কমে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একসময় মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা পোস্ট অফিসটি আজ অবহেলার শিকার।
এ বিষয়ে নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, “এখানে পোস্ট অফিসের যে ভবনটি আছে, এটি একদম পরিত্যক্ত। পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা আমার কাছে একটি রুম চেয়েছেন। আমি ইউনিয়ন পরিষদের একটি রুম প্রাথমিকভাবে দিয়েছি তাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য।”
নাজিরপুর পোস্ট অফিসের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কর্মকর্তা মো. আবুল হাসান বলেন, “আমাদের পোস্ট অফিসের নিজস্ব কোনো ভবন নেই। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের একটি রুম ব্যবহার করছি। আমাদের স্থায়ী একটি রুম হলে ভালো হতো। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব।”









